দিরিলিস আরতুগ্রুল পরিচিতি ও পটভূমি

দিরিলিস পরিচিত

দিরিলিস আরতুগ্রুল পরিচিতঃ 

দিরিলিস আরতুগ্রুল (Dirilis Ertugrul) দিরিলিস একটি তুর্কি শব্দ যার অর্থ পুনরুজ্জীবিত বা পুনরুত্থান। আর আরতুগ্রুল একটি নাম। যে নামট এসেছে উসমানী বা অটোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা উসমান গাজী পিতা আরতুগ্রুল গাজী থেকে। এই ২ টি শব্দ মিলে নাম হয়েছে দিরিলিস আরতুগ্রুল। দিরিলিস আরতুগ্রুল অর্থ হলো আরতুগ্রুলের পুনরুত্থান। এই সিরিজের নাম আরতুগ্রুলের পুনরুত্থান হওয়ার কারণ হলো এখানে মূলত সেই ঐতিহাসিক আরতুগ্রুল গাজীর জীবন নিয়ে রচিত এক ঐতিহাসিক ড্রামা।

এটি তুর্কি মিডিয়া পরিচালক মেহমেত বোজদাগ কর্তৃক নির্মিত একটি ঐতিহাসিক ড্রামা সিরিজ। মেহমেত বোজদাগ এর সাথে পরিচালনায় ছিলেন কেমাল তেকদেন। এই সিরিজটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন এনজিন আলতান দোজায়তান। তুরষ্কের ইস্তাম্বুলে বেয়কোয জেলার অন্তর্ভুক্ত রিভা নামক স্থানে এই সিরিজের চিত্র ধারণ করা হয়। ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর তুরস্কের জাতীয় টিভি টিআরটি টিভিতে এটি প্রথম প্রচার শুরু হয়। এরপরে এটি ব্যাপাক জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাষায় ডাবিং হয়ে এটি প্রচার শুরু হয়।

ইতিহাসের উপর ভিত্তি করে ওঘুজ তুর্কিদের সত্য ইতিহাসের উপর এটি নির্মিত হয়েছে। যেখানে তুলে ধরা হয়েছে আরতুগ্রুল গাজীর সংগ্রামী জীবিনের ইতিহাস। এই আরতুগ্রুল গাজীই সর্বপ্রথম উসমানীয় সাম্রাজ্যের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে দিয়ে যায়; যার পরে তার পুত্র উসমান গাজী খুব সহজেই একটি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। আরতুগ্রুল মারা যাওয়ার পরে ১৩ শ শতাব্দীর পর থেকে পরবর্তী প্রায় ৬০০ বছর এই উসমানীয় রাজবংশ সারা বিশ্বে তাদের সাম্রাজ্যেকে প্রসস্ত করেছিল।

পটভূমিঃ

এই সিরিজের প্রথম দিকেই লক্ষ্য করা হয় মঙ্গোলীয় বাহিনীরদের আক্রমণ, ষড়যন্ত্র, নির্যাতন, মুসলিমদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ ও গণহত্যা সহ নানামুখী পদক্ষেপ। যার কারণে এই সকল তুর্কি গোত্রগুলো তখন মধ্য এশিয়া ছেড়ে পালিয়ে যায়।

এ সকল ওঘুজ তুর্কিদের মধ্যে কায়ি গোত্র ছিল সবচেয়ে বেশি পরিশ্রমী ও নামডাকে সেরা। আনাতলিয়ায় তারা তাদের প্রায় চারশোটি বিশাল বেদুঈন তাবু গেড়ে আশ্রয় নেয়। কিন্তু পাহাড়ি মরু অঞ্চলে তাদের ছিল না কোন নিরাপত্তা, ছিল না তেমন খাবার পানি। এখানে তাদের এক প্রকার দুর্ভিক্ষের মতো কঠিন জীবন পাশাপাশি মোঙ্গলীয়দের অত্যাচার। তাই তারা একটি নতুন যায়গা খোজছিল নিরাপদে জীবন জাপান করার জন্য। তাদের এই বসতির প্রধান ছিল আরতুগ্রুলের পিতা সুলাইমান শাহ এবং চাচা কুরদুগলো। সুলাইমান শাহ এর ৪ পুত্র ছিল। বড় পুত্র সুনগুর তেকিন, তারপর গুনদারু আরতুগ্রুল গাজী, এবং দিনদান। তবে এখানে তাদের ২ ভাইকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছি গুন্দারো এবং আরতুগ্রুল দিনদার ছিল অনেক ছোট আর বড় পুত্র ছোটবেলায় হারিয়ে যায় এবং ২য় সিজনে ফিরে আসে।

এই সিরিজের শুরুতে বড় ভাই গুনদারু প্রশাসনিক বিষয় দেখাশুনা করতো এবং ছোট ভাই আরতুগ্রুল  প্রায়শ তার তিন ঘনিষ্ঠ বন্ধু তারগুত, দোগান ও বানছিকে সাথে নিয়ে শিকারে যেন। একদিন তারা শিকারে যাওয়ার পর দেখতে পায় নাইট ট্রেম্পলাররা কিছু বন্দীদের নিয়ে যাচ্ছে জংগলের মধ্য দিয়ে। সেখান থেকে আরতুগ্রুল এবং তার ৩ বন্ধু মিলে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায় তাদের বসতিতে। সেই বন্দীদের একজন ছিল সেলজুক শাহাজাদা নোমান এবং তার মেয়ে শাহাজাদী হালিমা সুলতানা এবং ছোট পুত্র শাহাজাদা। এই হালিমা সুলতানার সাথে পরবর্তীতে আরতুগ্রুলের৷ বিবাহ হয় এবং হালিমা ও এই সিরিজের একটি কেন্দ্রীয় চরিত্র।

শাহাজাদা নোমান এবং তার মেয়ে শাহাজাদী হালিমা সুলতানা ও তার পরিবার ছিল সেলজুক সাম্রাজ্যের এক অভিজাত পরিবারের সদস্য। তখন সেই সময় যদি আরতুগরুল তাদের রক্ষা না করতো তবে তাদের ফাসী হয়ে যেতো৷ এবং তারাও তখন তাদের পরিচয় গোপন রাখে যার কারণে সেই বসতিতে শুরুহয় নতুন সমস্যা। এরপর সবাই সবকিছু জেনে যায় এবং আগের থেকে বেশী সংগ্রাম জীবন শুরু করে তবও মাথা নত করে না। এ কারনে সুলাইমান শাহকে অনেক অত্যাচার সয়ে নিতে হয়েছে। পাশাপাশি ছিল তার এক বিশ্বাস ঘাতক ভাই কুরদুগলো যে সুলাইমান শাহের বিরুদ্ধে গোপন পরিকল্পনা করে তাকে সিংহাসন থেকে নামিয়ে নিজে সেখানে বসতে চায়। এরপরে তারা এ সকল ষড়যন্ত্র ও অত্যাচার মোকাবিলা করে আলেপ্লোর আমীরের সাহায্যে একটি নতুন জমি পায় এবং এভাবে আরো অনেক পথ পাড়িয়ে দিয়ে শেষে চুরান্তভাবে উসমানী সাম্রাজ্যের বিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।

দিরিলিস নির্মাণঃ

এই সিরিজটি তৈরি করতে পরিচালক মেহমেত বোজদাগ সিরিজটির যাযাবর পরিবেশ এর কোরিওগ্রাফি এর জন্য হলিউডের এক্সপেন্ডিবলস, রোনিন এবং  কোনান দ্য বারবারিয়ানের মত বিশাল বিশাল চলচ্চিত্রের করিওগ্রাফার টিমকে তুরস্কে আমন্ত্রণ জানায়। যারা এর অভিনেতা, ঘোড়া ও অন্যান্য দৃশ্যের জন্য বিশেষ কোরিওগ্রাফির তৈরিতে কাজ করেছেন। এই গ্রামে এই সিরিজের জন্য তখন ২৫টি ঘোড়া সহ নানা ধরনের বিষয়বস্তু সংগ্রহ করেন এবং এখানে একজম দক্ষ্য পশুচিকিৎসককে সারাক্ষণ উপস্থিত রাখতেন।

এই সিরিজের প্রয়োজে রিভা গ্রামে একটি ঘোড়াশালও নির্মাণ করা হয়। এখানে চিড়িয়াখানার মত করে একটি বিশেষ এলাকাও প্রস্তুত করা হয় যাতে শুধু ঘোড়াই নয়, এই সিরিজের দৃশ্যায়নে প্রয়োজনীয় নানা ধরণের পশুপাখিও রাখা হয়েছিলো। শুধু তাই নয় এই সিরিজের শিল্প নির্দেশনার ক্ষেত্রেও এটি তুর্কি সিরিজের একটি অন্যতম মাইলফলক।  সিরিজটির প্রয়োজনে তুরস্কের বিভিন্ন স্থান থেকে নানা জাতীয় ধাতুর সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করা হয়েছিলো। এর জন্য সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছিল তুরষ্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ান। যিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় তার সহধর্মিণীকে নিয়ে রিভা গ্রামে ভ্রমণ করে এই অভিনয় শিল্পীদের অভ্যার্থনা জানিয়েছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিরিলিস আরতুগ্রুলকে ২০১৪ মৌসুমের সবচেয়ে সফল তুর্কি টিভি সিরিয়াল হিসেবে উল্লেখ করেন রেটিংদাতারা। প্রথম পর্ব সম্প্রচারের পরেরই তুর্কি সামাজিক গণমাধ্যমে সাড়া ফেলে দেয়। এরপরে সারাবিশ্বের কাছেও এটির গ্রহযোগ্যতা বাড়তে থাকে। এখনো পর্যন্ত সারাবিশ্বে প্রায় ২২ টি ভাষায় এটি ডাবিং হয়েছে।

বাংলাদেশে দিরিলিস আরতুগ্রুল প্রচারঃ


বাংলাদেশে ২০১৬ সালের ১৪ই নভেম্বর থেকে একুশে টেলিভিশনে প্রথম এই সিরিজের বাংলা সম্প্রচার শুরু হয়। তখন এর নাম দেয়া হয় “সীমান্তের সুলতান”  এর কিছু পর্ব প্রচার করে তারা এটি বন্ধ করে দেয়। এরপর মাছরাঙা টিভি ২ এপ্রিল ২০১৭ খ্রি. থেকে “দিরিলিস আরতুগ্রুল” নামে পুনরায় এর সম্প্রচার শুরু করে। তারাও এই সিরিজটি সম্পূর্ণ প্রচার না করে বন্ধ করে দেয়। তারা সিজন ১ ও ২ প্রচার করে। এরপরে বাংলাদেশের কিছু দিরিলিস ভক্তরা (আলোকিত দ্বীন ও উসমানী খিলাফত) মিলে এর সিজন ৩ এর বাংলা সাবটাইটেল করে সাধারণ দর্শকদের দেখার ব্যবস্থা করে দেয়। Dirilis Bangla

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *