গেম অফ থ্রোনস নামে পরিচিতি দিরিলিস কাশ্মীরের স্থানীয় ইন্টারনেট থেকে যে কারনে বন্ধ করা হয়েছে

তুর্কি টেলিভিশন সিরিজ দিরিলিস আরতুগ্রুল যা কাশ্মিরে পারিবারিক সকলে একসাথে দেখছে। এমনকি তারা এটি দেখার জন্য ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞাকে পর্যন্ত পরাজিত করেছে।


‘দিরিলিস আরতুগ্রুল’ সিরিজটি স্থানীয় ইন্টারনেটে বন্ধ করে দেয়ার পরেও এ সিরিজ দেখা থেকে থামানো যাচ্ছে না তাদের। তারা এটি ড্রাইভে করে এক পরিবার থেকে অন্য পরিবারে শেয়ার করছে। ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞার আগে অনেক লোক সিরিজটি ডাউনলোড করে রেখেছিল। আবার কেউ কেউ কাশ্মিরের বাইরে ভ্রমণে গিয়েছিল। এরপরে সিরিজটি বিভিন্ন ভাবে এক পরিবারে থেকে অন্য পরিবারে এটি ছড়িয়ে দেয়। তুরস্ক, পাকিস্তান এবং ইরানের মতো মুসলিম দেশগুলির দ্বারা সম্প্রচারিত করা এ সিরিজ গুলো স্খনীয় ইন্টারনেট থেকে বন্ধ করার জন্য ভারতীয় সরকার সরকারি ভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

দিরিলিস আরতুগ্রুল ঐতিহাসিক তুর্কি সিরিজ যা অটোম্যান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম  উসমান এর পিতা আরতুগ্রলি গাজীর জীবনের উপর ভিত্তি করে এবং আনাতোলিয়া অঞ্চলের অন্যতম শক্তিশালী বৈশ্বিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তুর্কি উপজাতি কায়ী গোষ্ঠীর লড়াইয়ের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। এটার ভক্তরা কেবল অনুষ্ঠানটি বিনোদনের জন্য উপভোগ করে না বরং বলে যে এটি তাদের ইসলামিক ইতিহাসকে "পুনরায় আবিষ্কার" করতে সহায়তা করেছে। ইন্টারনেট বন্ধের আগে এই অনুষ্ঠানটি কাশ্মীরে ব্যাপক জনপ্রিয়তার মুখোমুখি হয়েছিল, এরপরেই এটি সরকার বন্ধ করার নিদ্ধান্ত নেয়।


পারিবারিক ক্রিয়াকলাপ:
শ্রীনগরের এক বাসিন্দা রফি আহমেদ বলেছিলেন যে, তাঁর পুরো এলাকাটি এই সিরিজটি দেখছিল, যা "পরিবারের ক্রিয়াকলাপে পরিণত হয়েছে"। এটি তাদের এলাকায় কারফিউ জারির পরে ব্যাপকভাবে দেখা শুরু হয়। এলাকায় কারফিউ জারির পরে তরুণরা সারা দিন স্থানীয় খেলার মাঠে ক্রিকেট খেলত। এতে যুবকরা সারা দিন খেলার পরে গোলমাল সৃষ্টি করাতো। এরপর আমাদের মধ্যে কেউ কেউ যুবকদের আরতুগ্রুলকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে এবং ঘরে বসে থাকার জন্য পরামর্শ দিয়েছিল। আহমেদ আরও বলেন, এর কয়েক দিনের মধ্যেই এলাকায় ক্রিকেট খেলার কমতে থাকে। সকেলে এই সিরিজ দেখা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আহমেদের মতে, এই সিরিজ এবং এটি কীভাবে তরুণদের মন্ত্রমুগ্ধ করেছিল তা নিয়ে প্রাচীনরা কৌতূহল জাগিয়ে তোলে।

মাগরিবের (সন্ধ্যার নামাজের) পরে, যুবা ও বৃদ্ধ সকল মানুষ একত্রে দিরিলিস আরতুগ্রুল নিয়ে আলোচনা করতে বসেন।  কারফিউ চলাকালীন ওয়াসিম শফি দ্যা প্রিন্ট মিডিয়াকে বলেছিলেন, তিনি এবং তাঁর পরিবার শ্রীনগরের নিজ এলাকায় থাকা কালে এই সিরিজটি দেখার জন্য তাদের দিনের বেশিরভাগ সময় ব্যয় করেছিলেন। শুধু সন্ধ্যায় কারফিউ শিথিল হলে তারা ঘরের কাজের জন্য বাজারে যেতেন। তিনি আরো বলেন, আমার এক বন্ধু সিরিজের সন্ধান দিয়েছিল। এরপর থেকেই আমি এটি দেখা শুরু করি। ধীরে ধীরে, আমার পরিবারও আগ্রহী হয়ে উঠল।

শফি আরও আরো বলেন, তাঁর মতো কাশ্মীরের অনেকেই দিরিলিসি আরতুগ্রুল দেখার মাধ্যমে ইসলামিক ইতিহাসকে “নতুন করে আবিষ্কার” করেছিলেন। "এছাড়াও আমরা সংস্কৃতি ও রাজনৈতিকভাবে সিরিজটি সম্পর্কিত করতে পারি, বিশেষত আজকের পরিবেশে যখন বিভিন্ন স্বাধীনতা এবং অধিকার নিয়ে ব্যাপক দমন হয়"

সিরিজটিতে সেলজুক রাজকন্যাকে বিয়ে করা নায়ক আরতুগ্রুলবে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য, খ্রিস্টান ক্রুসেডার, মঙ্গোল এবং অভ্যন্তরীণ মুসলিম বিরোধীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেখা যায়। এর পাঁচটি সিজন রয়েছে, প্রতিটি সিজনে ২৫ টিরও বেশি এপিসোড রয়েছে এবং প্রতিটি প্রায় দুই ঘন্টা দীর্ঘ। এটি এখন নেটফ্লিক্সে ৪৫ মিনিটের দারাবাহিক সিরিজে দেখা যায়, তবে ইন্টারনেট বন্ধের মধ্যে এটি কাশ্মীরিদের জন্য এখন বন্ধ। ধারাবাহিকটি তুরুষ্কে ২০১৩ থেকে ২০২৮ এর মধ্যে প্রচারিত হয়েছিল। তবে সকল সিজন ডাবিং না থাকায় কাশ্মিরের বাসিন্দারা এর বর্ণনাকে অনুসরণ করতে সাবটাইটেলগুলিতে নির্ভর করে।

কাশ্মীরিদের মতে, আগষ্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে ইন্টারনেট বন্ধ এবং নাগরিক চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা ফলে এই সিরিজটি আরো জনপ্রিয়তা হয়ে উঠেতে অবদান রেখেছে। কাশ্নিরের প্রতিটি কোণে, কোচিং সেন্টার, রাস্তায় রাস্তায় এমনকি মসজিদগুলিতে এটা নিয়ে বিভিন্ন ধরণের ক্রিয়াকলাপে পরিণত হচ্ছে।

আরো দেখুন ভিডিও থেকে:

Video

Post a Comment

0 Comments